← গাইড ও শেখা

উমরাহ সফরের ধারাবাহিক কার্যপ্রণালী

ইহরাম, তাওয়াফ, দুই রাকাত নামাজ, সায়ি ও হলক — উমরাহর ধারাবাহিক কার্যপ্রণালী।

উমরাহ সফরের ধারাবাহিক কার্যপ্রণালী

উমরাহ সফরের ধারাবাহিক কার্যপ্রণালী:

  1. ওমরাহর ইহরাম (ফরজ): পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা হয়ে গোসল বা অজু করে নিন। মিকাত অতিক্রমের আগেই সেলাইবিহীন একটি সাদা কাপড় পরিধান করুন, আরেকটি গায়ে জড়িয়ে নিয়ে ইহরামের নিয়তে দুই রাকাত নামাজ পড়ুন। ওমরাহর নিয়ত করে এক বা তিনবার তালবিয়া পড়ে নিন। তালবিয়া হলো— ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাকা।’
  2. ওমরাহর তাওয়াফ (ফরজ): অজুর সঙ্গে ইজতিবাসহ তাওয়াফ করুন। ইহরামের চাদরকে ডান বগলের নিচের দিক থেকে পেঁচিয়ে এনে বাম কাঁধের ওপর রাখাকে ‘ইজতিবা’ বলে। হাজরে আসওয়াদকে সামনে রেখে তার বরাবর ডান পাশে দাঁড়ান (মেঝেতে সাদা মার্বেল পাথর আর ডান পাশে সবুজ বাতি)। এর পর দাঁড়িয়ে তওয়াফের নিয়ত করুন। রুকনে ইয়ামানিকে সম্ভব হলে শুধু হাতে স্পর্শ করুন; চুমু খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এরপর হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত এসে চক্কর পুরো করুন। পুনরায় হাজরে আসওয়াদ বরাবর দাঁড়িয়ে হাত দিয়ে ইশারা করে হাতের তালুতে চুমু খেয়ে দ্বিতীয় চক্কর শুরু করুন। এভাবে সাত চক্করে তাওয়াফ শেষ করুন। হাতে সাত দানার তসবিহ অথবা গণনাযন্ত্র রাখতে পারেন।
  3. তওয়াফের দুই রাকাত নামাজ (ওয়াজিব): মাকামে ইবরাহিমের পেছনে বা হারামের যে কোনো স্থানে তওয়াফের নিয়তে (মাকরুহ সময় ছাড়া) দুই রাকাত নামাজ পড়ে দোয়া করুন। মনে রাখবেন, এটা দোয়া কবুলের সময়।
  4. ওমরাহর সায়ি (ওয়াজিব): সাফা পাহাড়ের কিছুটা ওপরে উঠে কাবা শরিফের দিকে মুখ করে সায়ি’র নিয়ত করে, দোয়ার মতো হাত তুলে তিনবার তাকবির বলে দোয়া করুন। তারপর মারওয়ার দিকে রওনা হয়ে দুই সবুজ দাগের মধ্যে একটু দ্রুত পথ চলে মারওয়ায় পৌঁছলে এক চক্কর পূর্ণ হলো। মারওয়ায় উঠে একইভাবে দোয়া করে সাফায় ফিরলে দ্বিতীয় চক্কর। এভাবে সপ্তম চক্করে মারওয়ায় গিয়ে সায়ি শেষ করে দোয়া করুন।
  5. হলক করা (ওয়াজিব): পুরুষ হলে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ অনুসরণে সম্পূর্ণ মাথা মুণ্ডন করবেন, তবে মাথার চুল ছাঁটতেও পারেন। মহিলা হলে চুলের মাথা এক ইঞ্চি পরিমাণ কাটবেন।